চলতি ২০২৫ পঞ্জিকাবর্ষের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) বিশ্বজুড়ে ইস্পাত উৎপাদন কমেছে ২ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময় মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টনে। চীনে উৎপাদন কমাই মূলত বৈশ্বিক উৎপাদন হ্রাসের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর দ্য হিন্দু বিজনেস লাইন।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়ার্ল্ড স্টিল) তথ্যানুযায়ী, জানুয়ারি-জুন সময়ে চীনের ইস্পাত উৎপাদন ৩ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৫১ কোটি ৪৮ লাখ টনে। বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে চীনের উৎপাদন হ্রাস বৈশ্বিক ইস্পাত খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশটির রিয়েল এস্টেট খাতের দীর্ঘমেয়াদি মন্দা ও কঠোর পরিবেশনীতি এ নিম্নমুখিতার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে একই সময় ভারতে বিপরীত প্রবণতা দেখা গেছে। দেশটি ৯ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে মোট ৮ কোটি ৯ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ ও অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধিই অবকাঠামো খাতের গুরুত্বপূর্ণ উপাদানটির ভারতের উৎপাদন বৃদ্ধির মূল কারণ।
জাপানে ইস্পাত উৎপাদন চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৫ শতাংশ কমে নেমেছে ৪ কোটি ৬ লাখ টনে। যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ৪ কোটি ২ লাখ টনে পৌঁছেছে। রাশিয়া ও অন্যান্য কমনওয়েলথ অব ইনডিপেনডেন্ট স্টেটস (সিআইএস) দেশগুলোয় উৎপাদন ৫ দশমিক ৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৪৮ লাখ টনে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ায় ইস্পাতের উৎপাদন ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে পৌঁছায় ৩ কোটি ৬ লাখ টনে এবং জার্মানিতে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টনে।
শুধু জুনের হিসাবে বৈশ্বিক ইস্পাত উৎপাদন ৫ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ১৪ লাখ টনে। এ সময়ে চীন ৮ কোটি ৩২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ কম। অন্যদিকে ভারতে পণ্যটির উৎপাদন ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে পৌঁছায় ১ কোটি ৩৬ লাখ টনে।
অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে জুনে আফ্রিকায় উৎপাদন ৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ টনে। এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে উৎপাদন কমেছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশে উৎপাদন ৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ১ কোটি ৪ লাখ টনে। উত্তর আমেরিকায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে পণ্যটির উৎপাদন হয়েছে ৮৭ লাখ টন।